Header Border

ঢাকা, বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) ৩০°সে
শিরোনাম :
বিএনপির মহাসচিব পদে পরিবর্তনের গুঞ্জন জলবায়ু : বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ওমরাহ পালনে কাবা ঘর খুলে দিচ্ছে সৌদি প্রকল্প পণ্যের অস্বাভাবিক দাম, মন্ত্রণালয়কে সতর্ক থাকার নির্দেশ ‘আমাকে হেয় করতে মামলা করা হয়েছে : ভিপি নুর ব্যবসায়িক কারণে কিটের অনুমোদন দেয়া হয়নি : জাফরুল্লাহ প্রাথমিকের শিক্ষকেরা গ্রেড-১৩ তে বেতন পাবেন শিগগিরই সাতক্ষীরা মেডিকেলে করোনার উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু মেয়াদউত্তীর্ণ স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে বিএনপি গণপরিবহন হাঁটা ও রিকশায় ৯৩ ভাগ চলাচল হলেও পরিকল্পনায় এই মাধ্যমগুলোর প্রাধান্য নিশ্চিত হয়নি

কিশোর অপরাধী ভয়ঙ্কর

রাজধানীসহ দেশের শহরাঞ্চলে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে কিশোর অপরাধীরা। গড়ে তোলা হয়েছে এলাকাভিত্তিক কিশোর গ্যাং। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরোনোর আগেই কিশোরদের একটা অংশের বেপরোয়া আচরণ এখন পাড়া-মহল্লায় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদক সেবন, মেয়েদের উত্ত্যক্ত, খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ও দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ প্রায় সব ধরনের অপরাধেই জড়িয়ে পড়ছে তারা।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকায় র‌্যাবের কঠোর অভিযানে দুই শতাধিক কিশোর অপরাধীকে আটক হওয়ার পর কয়েক মাস নিষ্ক্রিয় ছিল কিশোর গ্যাংগুলোর সদস্যরা। পরবর্তীতে তারা আবার বেপরোয়া হয়ে ওঠে নানা অপরাধে জড়াচ্ছে তারা। সিনিয়র-জুনিয়রের মতো তুচ্ছ কারণে বিভিন্ন জায়গায় ঘটছে খুনোখুনি। এলাকার এক শ্রেণির রাজনৈতিক বড় ভাইরা কিশোর অপরাধীদের আর্থিকসহ নানাভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কয়েকদিন আগে সবুজবাগে সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে খুন হয় ১৫ বছরের কিশোর জব্বার। গত মাসে কামরাঙ্গীরচরের রসুলপুরে সিনিয়র-জুনিয়র মারামারির ঘটনায় ছুরিকাঘাতে সজিব (১৬) নামে এক কিশোর খুন হয়। এর আগে মিরপুর, উত্তরা, মালিবাগে, খিলগাঁও ও যাত্রাবাড়ীসহ বেশ কয়েক জায়গায় কিশোরদের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তাছাড়া গত মাসে মাদারীপুরে দুই গ্রুপের প্রকাশ্যে মারামারিতে অন্তত ১০ যুবক গুরুতর আহত হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, রাজধানীতে এখনো অন্তুত ১০-১২টি কিশোর গ্যাং গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে।রয়েছে। তাছাড়া শুধু রাজধানীতে নয় চট্টগ্রামসহ বিভাগীয় শহর ও জেলা পর্যায়েও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে কিশোর অপরাধীরা।

মূলত ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ঢাকার উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরে আদনান কবির হত্যার পর এই ‘গ্যাং কালচারের’ বিষয়টি সামনে আসে। এরপর এলাকাভিত্তিক নানা কিশোর গ্রুপের ব্যাপ্তি বেড়েছে। ১৪-২০ বছর বয়সী কিশোরদের প্রতিটি গ্রুপে ১০ থেকে ২০ জন করে সদস্য রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

অপরাধ বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন, আকাশ সংস্কৃতি ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা বা তথ্যপ্রযুক্তি কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা বাড়ার অন্যতম কারণ। তথ্য-প্রযুক্তির কারণে শিশু-কিশোরদের নৈতিক স্খলন হচ্ছে। শহরের শিশু-কিশোররা পরিবার থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। এর ফলে তারা মাদকাসক্ত হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়াও রাজনৈতিকভাবে কিশোরদের ব্যবহার করার কারণেও তাদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, গত বছরের আগস্টে ঢাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠে কিশোর গ্যাংগুলো। তখন বাহারি নামের অন্তত অর্ধশত কিশোর অপরাধী গ্রুপ ছিল। পরে তাদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থেকে প্রথমে অভিযান শুরু করে র‌্যাব। ধারাবারিক অভিযানের পর বেশ কয়েকটি গ্রুপের প্রধানসহ অনেকেই গ্রেফতার হয়। পরে পুলিশও ঢাকা ও মফস্বলে এ জাতীয় অপরাধীদের দমনে অভিযান চালানের পর কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। সূত্রগুলোর দাবি, ওই সময়ে গ্রেফতার হওয়া অনেক কিশোর অপরাধী জামিনে মুক্তি পেয়েছে। তারা নতুন করে নিজ নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছে কিশোর গ্যাাং গ্রুপ।

সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে উত্তরা, মোহাম্মদপুর, দক্ষিণখান, মিরপুর, কামরাঙ্গীচর, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী, সবুজবাগ, শাহজাহানপুর ও তেজগাঁওসহ আরো কয়েকটি এলাকায় অনেকগুলো কিশোর অপরাধী গ্রুপ ফের সক্রিয় হয়েছে। নানা ধরনের অপরাধে জড়িত এসব কিশোর এলাকায় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ২০১৮ সালের শেষ দিকে খিলগাঁওয়ে ক্রিকেট খেলার মাঠে জোরে বল করার ‘অপরাধে’ রনি নামে একটি কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ গ্রুপ। পরের বছর ঝিলপাড় এলাকায়ও ঘটে একই ধরনের হত্যাকাণ্ড। এ ছাড়া উত্তরার প্রায়ই ঘটছে প্রতিপক্ষের সঙ্গে খুনখারাপি। এসব ঘটনায় জড়িত কতিপয় কিশোর পুলিশের হাতে আটক হলেও অনেকেই আবার ধরাছোঁয়ার বাইরে। স্থানীয় এক শ্রেণির রাজনৈতিক বড় ভাই রয়েছে তাদের পেছনে। এ জাতীয় কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধে এলাকার কাঁচাবাজার, অটোরিকশা ও মাদক বিক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা তোলারও অভিযোগ রয়েছে। গ্রুপের সদস্যদের পকেটে থাকে ধারালো চাকু। এদের আরেক গ্রুপ বিকট শব্দে মোটরসাইকেল রেস করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়।

অপরাধ বিশ্লেষকদের কারো কারো মতে, তারকাখ্যাতি, হিরোইজম, ক্ষমতা, বয়সের অপরিপক্বতা, অর্থলোভ, শিক্ষাব্যবস্থার ঝুঁকি এবং পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হওয়ায় তাদের সামাজিকীকরণ ও মানসিক বিকাশ দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ফলে সমাজের বিভিন্ন গ্যাং কালচারের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ছে কিশোররা। যেখানে শিশু-কিশোরদের সামাজিকীকরণের প্রথম ধাপ ছিল পরিবার কিন্তু আধুনিক ও তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সেখানে তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া।

সম্প্রতি ঢাকার উত্তরায় ‘অপু ভাই’ নামেখ্যাত টিকটক ভিডিও নির্মাতা একটি রাস্তা অবরোধ করে ৭০-৮০ জন কিশোর মিলে টিকটক ভিডিও তৈরি করছিল। সেই মুহূর্তে রবিন নামক একজন প্রকৌশলী গাড়ি নিয়ে রাস্তা পার হতে গেলে অপু ভাইসহ তার দল মিলে মারপিট করে উক্ত ব্যক্তির মাথা ফাটিয়ে দেয়।

গণমাধ্যম থেকে জানা গিয়েছে যে, নোয়াখালী থেকে ঢাকা আসা অপু ভাই নামক এই টিকটক সেলিব্রেটির আশ্রয়দাতা ছিল ঢাকার উত্তরার কিশোর গ্যাংয়ের তিন নেতা সাকিল, শাহাদাত এবং সানি। অনদিকে গত বছর বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। তরুণী মিন্নিকে ঘিরে প্রকাশ্যে দিবালোকের ওই খুনোখুনির ঘটনায় মূল ঘাতক নয়ন বন্ডের সঙ্গে ১০-১২ জন কিশোর অপরাধীও জড়িত ছিল। পরবর্তীতে মামলার চার্জশিটে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে পুলিশ।

কারণ ব্যাখ্যা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, কিশোরদের অপরাধ প্রবণতা আগেও ছিল, এখনো আছে। আগে তারা বখাটেপনা বা মেয়েদের উত্ত্যক্ত করত। এখন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এর বড় কারণ পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ না থাকা। এরপর বলব, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নানা কাজে ব্যস্ত থাকে। তারা এখানে খুব একটা মনোযোগ দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। পাশাপাশি এখন তো খেলার মাঠ নেই। তাই সবার হাতে এখন মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট। তারা ইন্টারনেটে মারামারির গেম খেলছে, হরর ফিল্ম দেখছে, এগুলো তাদের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র মতে, চট্টগ্রামে কিশোর অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নগরী ও জেলার পাড়ায় পাড়ায় চলছে কিশোর অপরাধীদের দাপট। খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ প্রায় সব ধরনের অপরাধেই জড়িয়ে পড়ছে তারা। এসব অপরাধীর অনেকে আবার মাদকাসক্ত। অস্ত্র ও মাদক ব্যবসাতেও আছে তাদের পদচারণা। নগরীতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংঘটিত বেশ কয়েকটি খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ ঘটনায় যারা আটক হয়েছে তাদের বেশিরভাগই উঠতি বয়সী। অস্ত্র, ইয়াবাসহ ধরা পড়ছে কিশোর-যুবকরা। রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ, বগুড়া, পটুয়াখালি, কুমিল্লা ও নারায়ণগজ্ঞসহ বড় শহরগুলোর একই চিত্র। কিশোর অপরাধীদের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ঘটনা সবাইকে রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে।

জানতে চাইলে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম বলেন, কিশোর অপরাধীরা নতুন করে সংঘবদ্ধ হয়ে অপরাধে জড়ালে অভিযান চালানো হবে। তার আগে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতে হবে তিনি বলেন, গত বছরের শেষ দিকে টানা অভিযান চালিয়ে আমরা কিশোর গ্যাংয়ের দুই শতাধিক সদস্যকে আটক করে সংশোধনাগারে পাঠিয়েছি। তাদের কেউ কেউ জামিনে মুক্ত হতে পারে।

একই প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া এন্ড পিআর) মো. সোহেল রানা বলেন, কিশোর অপরাধীসহ সব ধরনের অপরাধীদের ব্যাপারে তৎপর রয়েছে পুলিশ। এ জাতীয় অপরাধীদের অধিকাংশই বখে যাওয়া কিশোর। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় অভিযান চলে। তাদের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবকদের আরো সতর্ক হতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

গুলশানে স্পা সেন্টারে অভিযান, নারীসহ গ্রেপ্তার ২৮
রানীশংকৈলে ফেনসিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
স্ত্রীকে খুন করে ৯৯৯ নম্বরে জানালেন আওয়ামী লীগ নেতা
বগুড়ায় ক্রেতা সেজে অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করল ডিবি
রাজধানীতে চোরাই মোবাইল চক্রের ২০ সদস্য গ্রেফতার
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় কোটি টাকার ভুমি দখলমুক্ত




আরও খবর







Design & Developed BY Raytahost.com