Header Border

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং | ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) ২৭°সে

আরও তিনটি নতুন ধানের জাত অনুমোদন

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উচ্চ ফলনশীল তিনটি ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে। নতুন উদ্ভাবিত এসব ধান উপকূলীয় এলাকায় লবনাক্ততা সহনশীল এবং আউশ মৌসুমে চাষ করা যাবে।

জাতীয় বীজ বোর্ডের ১০৩তম সভায় মঙ্গলবার এ তিনটি ধানের জাত অনুমোদন করা হয়। নতুন উদ্ভাবিত এসব ধানগুলোর মধ্যে বোরো মৌসুমের লবণাক্ততা সহনশীল ২টি ও আউশ মৌসুমে চাষাবাদের উপযোগী ১টি।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক সভায় ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তিনটি ধানের জাত অনুমোদন দেয়া হয়।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি এর সিনিয়র কমিউনিকেশন অফিসার কৃষিবিদ এম আব্দুল মোমিন জানান, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত ব্রি ধান ৯৭ ও ব্রি ধান ৯৯ দেশের উপকূলীয় লবণাক্ততা অঞ্চলের জন্য ও অনুকূল পরিবেশে আবাদের জন্য এবং ব্রি ধান ৯৮ সারাদেশে আউশ মৌসুমে চাষাবাদের জন্য অবমুক্ত করা হয়। নতুন এই তিনটি জাত উদ্ভাবনের ফলে ব্রি উদ্ভাবিত সর্বমোট ধান জাতের সংখ্যা হলো ১০৫টি।

তিনি আরও জানান, সভায় অবমুক্ত করা নতুন জাতগুলোর মধ্যে ব্রি ধান৯৮ আউশ মওসুমে চাষ উপযোগী জাত। এর ফলন প্রতি হেক্টরে ৫.০৯ থেকে ৫.৮৭। এর দানা লম্বা ও চিকন। এ জাতের ধানের দানার রং সোনালী। এ জাতের জীবনকাল ১১২ দিন যা রোপা আউশ মৌসুমের জাত বিআর২৬ এর সমান। ১০০০ টি পুষ্ট ধানের ওজন গড়ে ২২.৬ গ্রাম। ধানের দানায় অ্যামাইলোজের পরিমাণ শতকরা ২৭.৯ ভাগ এবং প্রোটিনের পরিমাণ শতকরা ৯.৫ ভাগ। ভাত ঝরঝরে। এ জাতের কৌলিক সারিটি নির্বাচনের পর বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা মাঠে তিন বছর এর ফলন পরীক্ষা করা হয় এবং পরে কৌলিক সারিটি আউশ ২০১৮-১৯ মৌসুমে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের মাঠে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। উক্ত কৌলিক সারিটির জীবনকাল বিআর২৬ এর মতো এবং ফলন বেশী হওয়ায় প্রস্তাবিত জাত হিসেবে নির্বাচিত হয়। এরপর জাতীয় বীজ বোর্ডের মাঠ মূল্যায়ন দল আউশ ২০১৯-২০ মৌসুমে কৃষকের মাঠে প্রস্তাবিত জাতের ফলন পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। কৃষকের মাঠে ফলন পরীক্ষা সন্তোষজনক হওয়ায় আউশ মৌসুমের জন্য বিআর২৬ এর একটি পরিপূরক জাত হিসাবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়।

ব্রি ধান ৯৭ ও ব্রি ধান ৯৯ বোরো মৌসুমের উচ্চ ফলনশীল লবণাক্ততা সহনশীল ধানের জাত। এ জাতগুলো চারা অবস্থায় ১৪ ডিএস/মি এবং সমগ্র জীবনকাল ৮-১০ ডিএস/মি লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। ব্রি ধান ৯৭ এর গড় জীবনকাল ১৫২ দিন এবং গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৪.৯ টন। উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে অনুকূল পরিবেশে হেক্টর প্রতি ৭.০ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। এ জাতের ১০০০ টি পুষ্ট ধানের ওজন গড়ে ২৫.৫ গ্রাম। ধানের দানায় অ্যামাইলোজের পরিমাণ শতকরা ২৫.২ ভাগ এবং প্রোটিনের পরিমাণ শতকরা ৮.৬ ভাগ। গাছের গড় উচ্চতা ১০০ সে.মি. ও ডিগপাতা খাড়া। এর চাল মাঝারি মোটা হওয়ায় বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর ও খুলনা অঞ্চলে অধিক জনপ্রিয় হবে।ব্রি ধান ৯৯ এর গড় জীবন কাল ১৫৫ দিন এবং গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৫.৪ টন। উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে অনুকূল পরিবেশে হেক্টর প্রতি ৭.১ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম । এ জাতের ১০০০ টি পুষ্ট ধানের ওজন গড়ে ২২.৮ গ্রাম। ধানের দানায় অ্যামাইলোজের পরিমাণ শতকরা ২৭.১ ভাগ এবং প্রোটিনের পরিমাণ শতকরা ৭.৯ ভাগ। গাছের গড় উচ্চতা ৯৪ সে.মি. ও ডিগপাতা খাড়া। এর চাল লম্বা ও চিকন হওয়ায় সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও খুলনা অঞ্চলে অধিক জনপ্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ জাতের কৌলিক সারিগুলোর নির্বাচনের পর বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা মাঠে তিন বছর এর ফলন পরীক্ষা করা হয় এবং পরে কৌলিক সারিগুলোর বোরো ২০১৭-১৮ মৌসুমে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের মাঠে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। উক্ত কৌলিক সারিগুলো লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি ধান ৬৭ এর থেকে ফলন বেশী হওয়ায় প্রস্তাবিত জাত হিসেবে নির্বাচিত হয়। এরপর জাতীয় বীজ বোর্ডের মাঠ মূল্যায়ন দল বোরো ২০১৮-১৯ মওসুমে কৃষকের মাঠে প্রস্তাবিত জাতের ফলন পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। কৃষকের মাঠে ফলন পরীক্ষা সন্তোষজনক হওয়ায় বোরো মৌসুমের জন্য লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি ধান ৬৭ এর পরিপূরক জাত হিসাবে এ জাত দুইটি অবমুক্ত করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

ভিমরুলির ভাসমান বাজারে যেভাবে যাবেন
আলোচনা-সমালোচনার নাম রাজনীতি, প্রকাশ করতে হয় সেবা ও লেখার মাধ্যমে
কুষ্টিয়ায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন




আরও খবর







Design & Developed BY Raytahost.com