Header Border

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২০ ইং | ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল) ২৯°সে

লকডাউনের ফলে চবি ক্যাম্পাসে কমেছে করোনা সংক্রমণ !

মো.আলাউদ্দীনঃ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চবি প্রশাসনের দেয়া গত ৪ জুলাই শনিবার থেকে ২২ দিন ব্যাপি লকডাউনের সুফল পেয়েছে চবি প্রশাসন।এদিকে প্রশাসনের দেয়া প্রায় ২২ দিন ব্যাপি সর্বাত্নক এ লকডাউনের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২৫ জুলাই শনিবার।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চবি উপাচার্য্য ড.শিরিণ আক্তার ক্যাম্পাসে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দের সাথে জরুরী আলোচনার মাধ্যমে উক্ত লকডাউনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। গত ০৩ জুলাই রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শনিবার (৪জুলাই) হতে মঙ্গলবার(১৪জুলাই)পর্যন্ত লকডাউনের সিদ্ধান্ত জানানো হলেও পরবর্তীতে এই লকডাউনের মেয়াদ ২৫ জুলাই শনিবার পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। চবি ক্যাম্পাসে করোনার সংক্রমণ দ্রুতহারে বৃদ্ধি পাওয়ার এবং উপাচার্য্যের ব্যক্তিগত সহকারীসহ ক্রমাগতভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে চবি প্রশাসন এই লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়। করোনা ক্রান্তিকালে উপাচার্য করোনা পীড়িত মানুষের সাহার্য্যে এগিয়ে আসেন এবং প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম গতিশীল রাখতে গিয়ে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ করোনা আক্রান্ত হন। পরবর্তীতে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যবৃন্দ, সেচ্ছাসেবক টিমের সদস্যবৃন্দের সর্বাত্নক প্রচেষ্টায় এবং আইন-শৃংখলাবাহিনীর সহায়তায় ও ক্যাম্পস বাসীর সহযোগীতায় ক্যাম্পাস এলাকায় সংক্রমন শূণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সক্ষম হন। এই লকডাউন চলাকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জরূরী প্রশাসনিক কার্যক্রম চট্টগ্রাম শহরস্থ চারুকলা ইনস্টিটিউট হতে পরিচালিত হয়। এ সময় জরুরী প্রয়োজন ব্যাতি রেখে, বাইরে থেকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ এবং ক্যাম্পাস হতে বাহির হওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। ক্যাম্পাস এলাকায় লোকজনের অপ্রয়োজনীয় চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রন করা হয় এবং জরুরী প্রয়োজনে বের হলে মাস্ক পরিধাণ বাধ্যতামূলক করা হয়। জরুরী পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত কল্পে সকাল ১০:০০ ঘটিকা হতে বিকেল ৫:০০ ঘটিকা পর্যন্ত শুধুমাত্র মুদি দোকান ও ফার্মেসী সমূহ সার্বক্ষণিক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই লকডাউন চলাকালে করোনা আক্রান্ত পরিবার সমূহকে প্রয়োজনীয় সেবা ও সামগ্রী সরবরাহ করার ক্ষেত্রে ক্যাম্পাসে উত্তর ও দক্ষিণ এ বিভক্ত আকারে সার্বক্ষণিক সেচ্ছাসেবক টিম নিয়োজিত ছিল। এই লকডাউনের সিদ্ধান্তকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সর্বস্থরের মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং করোনা সংক্রমণ কমে আসায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সর্বমোট ৩৬ জন করোনা আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছে। করোনা ক্রান্তিকালিন বিভিন্ন ধরণের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য ড. শিরিণ আক্তার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা পীড়িত মানুষের সাহায্যে নিজেকে নিয়োজিত করেন। এ সময় তিনি করোনা ভাইরাসের কারণে আর্থিক অনটনে থাকা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বল্প আয়ের কর্মচারী ও অস্বচ্ছল ব্যক্তি বর্গের মাঝে অব্যহতভাবে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করেন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ও নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞান অনুষদের বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয় করোনা সনাক্তকরণ ল্যাব। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বসবাসরত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারবর্গের উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানের নিমিত্তে বর্তমান চবি মেডিকেল সেন্টারকে ক্লিনিকে উন্নীত করার কার্যক্রম হতে নেন তিনি।

এছাড়াও, করোনা ভাইরাসের উদ্ভূত পরিস্থিতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষা সংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রম বিষয়ে গত ১০ জুন, ২০২০ ইং ডিনবৃন্দের একটি সভায় চবি’র পরিবারবর্গের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত কল্পে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত দুটি মেডিক্যাল কলেজ যথাক্রমে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত মা ও শিশু হাসপাতাল এবং চাঁদগাও ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে দ্রুত চিকিৎসা সেবা প্রদানে জন্য একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয় বলে চবি প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

হক্কানি উলামায়ে কেরামের নামে মিথ্যা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে – বাবুনগরী
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা !
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন পদত্যাগ করা চবি প্রক্টর ড.হানিফ মিয়া !
ঝিনাইদহ পাকা গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন-এমপি আনার
১৪ দিনের লকডাউনে চবি ক্যাম্পাস
সব বয়সীদের ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তির সুযোগ




আরও খবর







Design & Developed BY Raytahost.com