Header Border

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২০ ইং | ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল) ২৯°সে

মানবজাতির করোনা ও প্রাণীকুলের ভাবনা

রাজু-বিশ্বাস(দুর্জয়);- সকাল প্রায় ৮ টা বাজে ব্যস্ততম শহরের মসজিদের মাইকের ঘরে বাসা বাধা হলুদ পাখিটি তার গিন্নিকে বলছে কিগো উঠ দেখ সব সর্বনাশ হয়ে গেছে। আড়মোড়া ভেঙ্গেই দ্রুত গিন্নি বলল কিসের সর্বনাশ? হুলুদ পাখিটি বলল যেন কিছু বুঝনা,আরে বাবা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ আজ আমাদের কতল করবে,এবারো বুঝি আমরা সন্তানের মুখ দেখনা।কি জাল পেতেছে শহরের সকল মানুষ মিলে। ওরা এতদিন আমাদের রাত ৩ টা পর্যন্ত জেগে ডিস্টার্ব করত,আবার ফজরে আমাদের সাথেই জেগে উঠত,কিন্তু আজ দেখ বেলা ৮ টা বাজে ওরা এখনো জাগেনি,অজুর কলের আওয়াজে ঘুম ও ভাঙ্গেনি আমাদের। নিরব নিস্তব্ধ জনমানবহীন এই ব্যস্ত শহর কেন জানি আজ ভূতুরে মনে হচ্ছে। এতদিন দু ঘন্টা ঘুমাতে দিত আজ ৫ ঘন্টা পরেও কোন মানুষ দেখছিনা।গিন্নি বলল হ্যা,নিশ্চই ওরা আমাদের মারার প্ল্যান করেছে সবাই মিলে। তা না হলে হোটেলের কুকুর গুলো আজ হোটেলের পেছনে নয়,আমাদের আশপাশে ঘুরছে কেন?
অন্যদিকে বুদ্ধিমান কুকুরের দল ভাবছে হঠাৎ কি এমন অপরাধ করলাম যে সব হোটেল বন্ধ হয়ে গেল।যে মানুষ খাবার স্টক করে,আজ সেই মানুষ খাবার দোকানের আশেপাশেই নেই।শুধুমাত্র দু ধরনের দোকান ও কাচামালের ফেরি নিস্তব্ধ শহরের বুকে হঠাৎ বেগুন কত জিজ্ঞাস করলেই ভয়ে কেপে উঠে।যাই হোক ঐ দেখা যাচ্ছে কিছু লোক চাল ডাল নিচ্ছে পিছু নিতে হবে।নিরব রাস্তাঘাট, যানযট শুন্য কুকুরগুলোর পিছু নেওয়াটাকে অনেকটা ভৌতিক ভেবে বাবাগো বলেই ভো দৌর দিল বহর।তবুও হাতের ব্যাগ ফেলেনি।অনেক কষ্টে গন্ধ শুকে শুকে বহরের বাড়ি পর্যন্ত এসেই শুটকির ঘ্রাণে মেতে উঠলো কুকুর গুলো, কিন্তু দুখের বিষয় আজ ৩ দিন হল বেচারার জানালাটাও খোলা হয়নি,উচ্ছিষ্ট খাওয়া ত দুরের কথা।হঠাৎ দল নেতা বলল দেখ ভাই মানুষ তাদের চাইতেও বেশি ভালবাসে আমাদের, কারন আমরা বিশ্বাসী নুন খেলেই গুন গাই।হয়ত মানুষের মধ্যে একটা বিপদ এসেছে, যে হোটেলের মালিক সারাবছর খাওয়াল তার হোটেল পাহাড়া দিই গিয়ে,তাতেই লাভ।তবে পাহাড়া দিলে কি হবে,পেটে শান্তি নেই ত ৪ দিন হয়ে গেল তাই রুগ্ন শুক্ন হয়েই পাহাড়ায় কুকুরগুলো কখন জানি ওপারে পারি জমায় কারো জানা নেই।এদিকে গ্রামের ভ্যানচালক অলির দু ছেলে তিন মেয়ে না খেয়ে আছে ৪ দিন হল, বউয়ের বকা খেয়ে বিকেল বেলা ভ্যান নিয়ে বেরুতেই ভুমি কমিশনার কান ধরে উঠ বস করিয়ে ইন্টারনেটে দিয়েছেন সারা দুনিয়া দেখছে,গাড়ি সীল করা হল রিক্ত হস্তে বাড়ি ফিরে বাকরুদ্ধ অলি।এখন বাচ্চাড়াও ভুলে গেছে ক্ষুদার জ্বালা নতুন জ্বালা বাবা কথা বলেনা কেন?
এদিকে ভুট্টাখেতে থাকা ঘাসফড়িং আর বাঘফরিংগুলো ভাবছে হঠাৎ দুনিয়ার মানুষ এত দয়ালু হল কি করে?আমাদের বিষ কীটনাশক এখন তাদের  জীবাণু নাশক,এরা আমাদের স্প্রে করে না ওদেরকেই স্প্রে করে কিন্তু কেন? ঘাসফড়িং ডেকে বলছে ওরে বোকা সময় কম ফসল খেয়ে সুষ্ঠু বাচ্চার জন্ম দেও। বাঘফরিং বলল সামনেই বর্ষা,খাওয়াব কি? ঘাসফরিং বলল আবার আমাদের বাচ্চারা-আমরা মরি কেন?উত্তর দিল মানুষের  কীটনাশকে,ঘাসফড়িং বলল এবার সব মানুষ মরবে জীবানুনাশকে,বর্ষায় জমি তল হলেই কয়েকবছর মানুষের পচা মাংস খেয়েই দিব্যি কাটিয়ে দিব।(আসছে ২ য় পর্বে)
গল্পটি আপনার কাছে ভাল লেগে থাকলে আমাদের পোর্টালের কমেন্টবক্সে আপনার অনুভূতি আমাদের জানিয়ে দিন,তবেই দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

কবিতা: আত্মগোপন
শ্রাবণ ধাঁরা-জুনাইদ হাসান
জাবীদ মাঈনুদ্দিন এর একক কবিতার বই – “শাড়ীর কথাই বলি”
প্রভূর লীলা তমা সমাদ্দার প্রিয়া
মুখে মুখে সবাই আপন-আজমাইন মাহতাব
প্রাণের মাঝে বাংলা দোলে-হাবিবুর রহমান




আরও খবর







Design & Developed BY Raytahost.com